রোদের সমস্যা রোধে ২০ বছর ধরে ‘মহাকাশ’ হেলমেট পরেন তিনি ।

চিকিৎসা বিজ্ঞানের উন্নতি হচ্ছে। স্বল্প সময়ে রোগ শনাক্ত করা যাচ্ছে। শনাক্ত রোগের প্রতিকারে নির্দেশনা মিলছে। আবিষ্কার হচ্ছে শনাক্ত করা রোগের প্রতিষেধক। কিন্তু পৃথিবীতে অনেক রোগ রয়েছে যার চিকিৎসা বা প্রতিষেধক বের করতে পারেননি গবেষকেরা। তেমনি এক রোগে আক্রান্ত মরক্কোর বাসিন্দা ফাতিমা গাজেভি। রোগটির কারণে রোদে বের হতে পারেন না তিনি। তাই মহাকাশচারীরা যে ধরনের হেলমেট ব্যবহার করেন সে ধরনের হেলমেট পরে ২০ বছর ধরে দিনের বেলায় চলাফেরা করেন ফাতিমা।

ফাতিমার রোগটি বিরল। রোগটি মূলত ত্বকের। যার নাম জিরোডার্মা পাইগামেন্টোসাম। এ রোগে আক্রান্ত রোগীর ত্বকে রোদ লাগলে মারাত্বক ক্ষতির সম্ভাবনা থাকে। সরাসরি রোদের অতি বেগুণী রশ্মি থেকে নিজেকে রক্ষা করতেই ২০ ধরে মহাকাশচারীদের হেলমেট ব্যবহার করতে বাধ্য হন ফাতিমা। ফাতিমার জীবনের ১৩ টি বছর ছিল মধুর। রূপবতী মেয়ের জীবনধারা ছিল আনন্দময়। কিন্তু ১৩ বছরে পা দিতেই বদলে যায় ফাতিমার ত্বক। ধরা পড়ে বিরল রোগ জিরোডার্মা পাইগামেন্টোসাম।

সূর্যের আলোর সংস্পর্শে আসায় অতি বেগুণী রশ্মি ফাতিমার ত্বকের ক্ষতি করতে পারে। রোদে পুড়লে ত্বক আবার স্বাভাবিকভাবে ঠিক হয়ে যায়। কিন্তু ফাতিমার হওয়া রোগটি ত্বক নিজে থেকে স্বাভাবিকভাবে ঠিক হতে পারে না। এতে বিশাল ভয়ের সঞ্চার হয় ফাতিমার মনে।

বিশেষজ্ঞদের ভাষ্য, জিরোডার্মা পাইগামেন্টোসাম অর্থ্যাৎ ফাতিমা যে রোগে আক্রান্ত হয়েছে তা মূলত জিনগত সমস্যা। এ রোগ হলেই মুখের কোষগুলো নিজেদের মেরামত করার ক্ষমতা হারিয়ে ফেলে। তাই রোদ থেকে দূরে থাকাই শ্রেয় বা অতিব গুরুত্বপূর্ণ।

সাধারণত শরীরের যেকোনো ত্বকে বেশিক্ষণ রোদ পড়লে চামড়া পুড়ার সম্ভাবনা থাকে। তবে কোষগুলো নিজে থেকেই পুড়ে যাওয়া ত্বক ঠিক করে নেয়। তবে ফাতিমার ত্বকের কোষগুলো সেই সক্ষমতা হারিয়ে ফেলেছে।

এপি ফটো ব্লগের প্রতিবেদন অনুযায়ী, জিরোডার্মা পাইগামেন্টোসাম আক্রান্ত রোগীর ওপর সূর্যের আলো পড়লে বড় বিপদ হতে পারে। সূর্যের আলোয় চামড়া বা ত্বকে ক্যান্সার হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। তাই ফাতিমা ২০ বছর ধরে সূর্যের অতি বেগুণী রশ্মি প্রতিরোধে মহাকাশচারীদের হেলমেট ব্যবহার করছেন। জিরোডার্মা পাইগামেন্টোসাম আক্রান্ত ফাতিমার জীবন ব্যবস্থাও ভিন্ন। দিনের বেলায় বেশির ভাগ সময় ঘুমিয়ে কাটে তার। রাতে বাইরে বের হন তিনি।

দিনে রোদ না থাকলেও বাইরে বের হওয়ার সময় হেলমেট ছাড়াও মাস্ক ও গ্লাভস ব্যবহার করেন। রোগে আক্রান্ত হওয়ার আগে ফাতিমা নিয়মিত বিদ্যালয়ে যেতেন। রোগটি ধরা পড়ার পর তার প্রাতিষ্ঠানিক শিক্ষা বন্ধ হয়। তবে দমে থাকার পাত্রী নন তিনি। বাড়িতেই পড়াশুনা চালিয়ে যাচ্ছেন অদম্য ফাতিমা। সূত্র- ডেইলি মেইল।